পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরুর আগেই এক শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সমর্থনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট সামনে এসেছে, যেখানে থাকা প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট মিলিয়ে দেখা হয়। এতে স্ক্রিনশটে থাকা ২ নম্বর প্রশ্নটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে শব্দে শব্দে মিল পাওয়া যায়। প্রতিবেদকের হাতে আসা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, "Mahadev Sir" নামে সংরক্ষিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে এক শিক্ষার্থীর কাছে ইংরেজি প্রথম পত্রের একটি প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে। সেখানে পাঁচটি প্রশ্ন ছিল, যা পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, প্রশ্নপত্রটি একবারে নয়, ধাপে ধাপে বিভিন্ন অংশে শিক্ষার্থীর কাছে পাঠানো হয়েছিল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন প্রণয়ন করেন সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মহাদেব রায়। বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যে শিক্ষক প্রশ্ন প্রণয়ন করেন, তিনিই প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে খামে সিলগালা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ে সেই সিলগালা খাম খুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। ফলে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গেলে বা ফাঁসের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন প্রণয়নকারী শিক্ষকের দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয় বলে বিদ্যালয় সূত্র জানায়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি. এম. রুহুল আমিন বলেন, "দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করব। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, "আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, "একজন শিক্ষক যদি প্রশ্ন ফাঁস করেন, তাহলে মানসম্মত শিক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে? বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তনবিরুজ্জামান রুবেল বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়তে এবং বিশেষ কোচিংয়ে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় অভিযোগ ছিল, তাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া হতো। বিষয়টি জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :