দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদক বিক্রির অভিযোগ, ওসি প্রত্যাহার

আলম চৌধুরী , সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদক জব্দের পর সেই মাদক বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল বারীকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক আদেশে ওসি আবদুল বারীকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি মডেল থানার দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করার পর সেই গাঁজার একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ওঠে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ওসি মো. আবদুল বারীকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন ওসি আবদুল বারী। তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষের জের ধরে একটি পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসি আবদুল বারী বলেন, দাউদকান্দি মডেল থানায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনে আমি চাকরি ছেড়ে দেব। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ নিয়ে কর্মস্থল ছাড়ছি না।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Link copied!