গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় একটি সুসংগঠিত প্রতারণার কারখানার সন্ধান পেয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়, পুলিশের সরঞ্জাম ও বিআরটিএ-এর জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে এই চক্রটি চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা এবং জাল কাগজপত্র তৈরি করত। অভিযানে চক্রের কথিত মূল হোতা মো. করবেল খাঁ (২৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে পুলিশ ও বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট জাল সরঞ্জাম, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আলামত।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৩০ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাছা থানার পেয়ারাবাগান রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে করবেল খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একে একে ৩৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত করবেল খাঁ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশ ধারণ করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর চোরাই মোটরসাইকেলের জন্য বিআরটিএ-এর জাল রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য নথিপত্র তৈরি করে সেগুলো বৈধ হিসেবে বিক্রি করতেন। এ কাজে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করতেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ল্যাপটপ, তিনটি প্রিন্টার, বিআরটিএ-এর মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন বইয়ের চারটি কপি, ছয়টি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ১১টি ই-রেজিস্ট্রেশন কার্ড, একটি ওয়াকিটকি সেট, নয়টি গ্রাম সিম, দুটি মেমোরি কার্ড, পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ও সরঞ্জাম, বিশেষ শাখা (এসবি) পরিচয়পত্র সদৃশ কার্ড, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড এবং বিভিন্ন ধরনের জাল কাগজপত্র।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, চোরাই যানবাহনকে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বৈধ রূপ দিয়ে বাজারজাত করার এ ধরনের চক্র শুধু সম্পদ চুরিকেই উৎসাহিত করে না, বরং আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নথির নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। এ কারণে পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় গাছা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।
আপনার মতামত লিখুন :