‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিলেই গণধোলাই দেওয়া শুরু হয়েছে: মোমিন মেহেদী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ এএম

নতুনধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিলেই জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ তথাকথিত ‘জুলাই’কে আর নিজেদের আন্দোলন হিসেবে দেখছে না।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর তোপখানা রোডের বিজয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মোমিন মেহেদী বলেন, যে ‘জুলাই’ যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, শিশুর টিকাসংকট সৃষ্টি করেছে এবং দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মতো নানা অভিযোগে অভিযুক্ত— সেই ‘জুলাই’ জনগণের নয়। তাঁর ভাষ্য, এসব ঘটনার কারণেই দেশের পথে-ঘাটে, বাজারে-হাটে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিলে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুনধারা বাংলাদেশের জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় ও সাংগঠনিক পর্যায়ের সব নেতাকর্মীকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র সহসভাপতি শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান ও ওয়াজেদ রানা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাশেম মোল্লা, আফতাব মণ্ডল এবং নয়ন বেপারী।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘৩৬ জুলাই’-এর মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিরা সংসদে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। তাঁদের দাবি, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে সংসদ ঘেরাওসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা। তাদের দাবি, ওই বাণিজ্য চুক্তির প্রতিটি ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বক্তারা আরও বলেন, ‘জুলাই’-এর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে দেশে অপরাধ, অস্থিরতা ও সামাজিক অনিরাপত্তা বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতির নৈতিক দায়িত্ব।

 

নেতারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই’কে ব্যবহার করে যারা অর্থপাচার, রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন এবং ক্ষমতার অবস্থানে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অবস্থান নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

Link copied!