কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রাইটুটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাতারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসি এবং ‘লুকোচুরির’ কারণে বিচার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
নিহতের পরিবার জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে উজ্জ্বল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা করেছিলেন। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেন আবু কালাম ও জিয়ন নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। পরে উজ্জ্বলকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের ভাগিনা ও মামলার বাদী মোশাররফ হোসেনের ।
স্বজনদের অভিযোগ, হত্যার পর ইটনা থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ মামলা গ্রহণে অনীহা দেখায়। পরে আদালতে আবেদন করলে বিচারক ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, আগের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আবু কালাম ও জিয়নকে হত্যা মামলায় এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এদিকে, ইটনা থানার সেকেন্ড অফিসার সজিবের নামে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অডিওতে আসামিদের গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশের কথা বলা হয়েছে।
তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে থানা পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, "উজ্জ্বল হত্যা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। আগের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আবু কালাম ও জিয়ন কারাগারে রয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন :