ইটনায় বিএনপি নেতা উজ্জ্বল হত্যা: ময়নাতদন্তে বাম পাশ ও ফুসফুসে গুরুতর আঘাতের তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

ইটনায় বিএনপি নেতা উজ্জ্বল হত্যা: ময়নাতদন্তে বাম পাশ ও ফুসফুসে গুরুতর আঘাতের তথ্য

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রাইটুটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাতারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল হত্যা মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার শরীরে গুরুতর আঘাতের তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। 

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

 

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত উজ্জ্বলের শরীরের বাম পাশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বাম দিকের একাধিক পাঁজরের হাড় ভাঙা, বাম ফুসফুসে আঘাতজনিত ক্ষতি এবং বুকে মারাত্মক আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতামত অনুযায়ী, বুকে ভোঁতা বস্তুর আঘাত (Blunt Force Injury to the Chest) থেকে সৃষ্ট জটিলতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

 

নিহতের পরিবার জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে উজ্জ্বল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ হোসেন আবু কালাম ও জিয়ন নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। পরে উজ্জ্বলকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের ভাগিনা ও হত্যা মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন।

 

স্বজনদের অভিযোগ, হত্যার পর ইটনা থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে আদালতে আবেদন করলে বিচারক ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা নথিভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

 

পরিবারের দাবি, আগের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আবু কালাম ও জিয়নকে এখনো হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তারা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

 

এদিকে, ইটনা থানার সেকেন্ড অফিসার সজিবের নামে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অডিওতে আসামিদের গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অভিযোগে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, “উজ্জ্বল হত্যা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। আগের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আবু কালাম ও জিয়ন কারাগারে রয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

সিয়াম সরিষা
Link copied!