বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যার্তদের কল্যাণে কাজ করছেন। এটা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সৌন্দর্য। দেশের যেকোনো সংকট মিলেমিশে একসাথে মোকাবিলা করতে হবে। আমি মনে করি এটা দোষারোপের সময় নয়, আমরা প্রতিজন দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। হয়তোবা কারো কাছে আগে অথবা কারো কাছে পরে, আমরা পৌঁছাবোই।
তিনি সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নস্থ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে বন্যার দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য অমিত বলেন, সরকার যখন আমাকে ত্রাণ ব্যবস্থাপনার তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন, বন্যা শুরুর প্রথম থেকেই আমি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও কী কাজ করছেন জেনেছি এবং কী করতে হবে তা নির্দেশনা দিয়েছি। রোববার সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের ১১৭টি ওয়ার্ড আমরা বিবেচনায় রেখেছি। শনিবার রাতেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম। এর অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন দুর্গতদের শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এই তথ্যটা আমাদের অনেকেরই কাছে নেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, কারো পক্ষেই বিগত সাত দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং কেউ এখনও পৌঁছাতেও পারেনি। পানি কমার সাথে আমরা পুনর্বাসনের কাজ শুরু করব। একজন মানুষও যাতে দুর্ভোগ ও কষ্টে না থাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তা আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন, বিমান বাহিনী চট্টগ্রামের উইং কমান্ডার খায়রুল মামুন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসান ও উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দেসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরে প্রতিমন্ত্রী স্পিডবোর্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, ধর্মপুর ও বাজালিয়ার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :