ফেনী জেলার প্রস্তাবিত ফুলগাজী পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত গাবতলা, মনতলা ও সোনাপুর গ্রামকে পৌরসভার আওতাভুক্ত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট একটি আবেদনপত্রও প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাবতলা, মনতলা ও সোনাপুর গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ফুলগাজী ইউনিয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রশাসনিক, ভৌগোলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন নাগরিক জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এ তিন গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও নির্ভরতা ফুলগাজীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের ক্ষেত্রে গাবতলা ও সোনাপুর গ্রামকে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন এবং মনতলা গ্রামকে ছিথলিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হাজারো মানুষকে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা, দূরবর্তী স্থানে যাতায়াত, নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি এবং নানা সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আবেদনে গাবতলা গ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, এটি শিক্ষা, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ফুলগাজী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। গ্রামটিতে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) একটি ক্যাম্প, কয়েকটি বৃহৎ মাদ্রাসা, বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় বাজার এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও জনগণের জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফুলগাজীকেন্দ্রিক।
অন্যদিকে, মনতলা গ্রামে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি একাধিক মাদ্রাসা ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। এখানকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রও ফুলগাজী।
আবেদনকারীরা আরও উল্লেখ করেন, ফেনী জেলার পরশুরাম পৌরসভা গঠনের সময় পরশুরাম ইউনিয়নের আওতাধীন সব গ্রাম পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই জেলার ফুলগাজী পৌরসভা গঠনের ক্ষেত্রে গাবতলা, মনতলা ও সোনাপুরকে বাদ দেওয়া হলে তা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং একই ধরনের বিষয়ে ভিন্ন নীতি অনুসরণের নজির সৃষ্টি করবে।
তাদের মতে, গাবতলা, মনতলা ও সোনাপুর গ্রামকে প্রস্তাবিত ফুলগাজী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হলে সরকারের পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি এটি সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন ঘটাবে।
এলাকাবাসী জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে গাবতলা, মনতলা ও সোনাপুর গ্রামকে প্রস্তাবিত ফুলগাজী পৌরসভার আওতাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশা, এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে অঞ্চলের হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আপনার মতামত লিখুন :