ফেনীর সবচেয়ে ব্যস্ততম যানজটপ্রবণ এলাকা মহিপাল। প্রতিদিনই উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, নিয়মভঙ্গ ও অসচেতনতার কারণে এখানে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজারো যাত্রী, পথচারী ও জরুরি সেবার যানবাহনকে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে আবারও নজির স্থাপন করলেন ফেনীর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) কবির হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এ সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি সরকারি গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টোপথে ফেনী-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রবেশের চেষ্টা করে। বিষয়টি নজরে আসতেই টিআই কবির হোসেন গাড়িটি থামিয়ে দেন এবং চালককে নির্ধারিত পথ ব্যবহার করে নিয়ম মেনে চলাচলের নির্দেশ দেন। পরে চালক নির্দেশনা মেনে গাড়িটি ঘুরিয়ে সঠিক পথে চলে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, মহিপাল এলাকায় উল্টোপথে যানবাহন চলাচল এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে একটি যানবাহন উল্টোপথে প্রবেশ করলেই মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এ কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়। ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত তৎপরতায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও অনেক চালকের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা গড়ে ওঠেনি।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কবির হোসেন বলেন, "সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাড়িটি ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টোপথে মহাসড়কে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। ওই সময় চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের চাপ ছিল। গাড়িটি প্রবেশ করলে বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হতে পারত। তাই চালককে নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে গাড়িটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে সহযোগিতা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। সরকারি বা বেসরকারি—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।স্থানীয়দের মতে, সরকারি গাড়িকেও ছাড় না দিয়ে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তারা বলছেন, সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর হলে মহিপালের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন :