যমুনার ভাঙনে বিলীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হুমকিতে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়

মাহমুদুল হাসান , চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

যমুনার ভাঙনে বিলীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হুমকিতে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামের কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভাঙনের তীব্র হুমকিতে রয়েছে চৌহালীর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, অর্ধশত বাড়িঘর, ফসলি জমি ও খাষপুখুরিয়া। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জিওটেক্স বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ডাম্পিং করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে নিঃস্ব ও অসহায় জীবনযাপন করছেন। বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় তাদের সন্তানদের লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দূরের বিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠানোর সামর্থ্য তাদের নেই। তাই দ্রুত বিদ্যালয়টি রক্ষার্থে প্রকল্পের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তারা।

কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ করেই নদীভাঙন শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিদ্যালয়ের ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, বিদ্যালয়ের আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

তিনি বলেন, "বিদ্যালয়টিতে চারটি গ্রামের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারের প্রায় ১৯৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আশপাশে আর কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এটি ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। ভাঙনকবলিত স্থানে আগে থেকেই জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হতো।" তবে বিষয়টি চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই জিওব্যাগ ডাম্পিং করা না হলে বিদ্যালয়টিও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, মধ্যরাতের ভাঙনে শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তবে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুন্নাফ খান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের বিষয়টি সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নতুন জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে। ততদিন পর্যন্ত একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে অচিরেই ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সংবাদ পেয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!