সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদের একজন আইকনই নন, তিনি একজন লুটেরা। এসময় জুলাইয়ে ঠিক কত জায়গায় এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গণহত্যার সাথে শামিল হয়েছিলেন তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন এমপি।
আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ব্যাংক লুট করেছেন, ইসলামী ব্যাংককে তিনি দখল করে এস আলমের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিদেশে বাড়িঘর করেছেন, বিদেশের একটা পারমানেন্ট রেসিডেন্সি তিনি নিয়েছেন। এরকম একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা রাখেন না। এমনকি ৫ আগস্টের পরে শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি দেননি, সেটা নিয়ে তিনি দুই ধরণের কথা বলেছেন—স্পষ্ট মিথ্যাচার করেছেন। একবার বলেছেন যে তার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে, আরেকবার তিনি বলেছেন যে তার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়নি।
আখতার বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকতে পারেন না—এ কথাটা আমরা দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আমরা তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তখন সাংবিধানিক সংকটের কথা আমাদেরকে বলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারকেও আমরা বললাম। তখন আর সাংবিধানিক সংকট তাদের পক্ষ থেকে থাকে না। কিন্তু তারপরেও তারা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে সংসদে বক্তৃতা দেওয়ালো, মহান সংসদকে কলঙ্কিত করলো।
বিএনপি তার সাথে ইন্টারনাল নেগোশিয়েশন করে এই সরকার গঠন করার পরে একটা সময় পর্যন্ত তাকে রেখেছে এবং তাকে তারা একটা সেফ এক্সিট দিতে চায় দাবি করে আখতার বলেন, গণহত্যার সময় চুপ্পু কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জায়গা থেকে তিনি এটাকে নিবৃত্ত করতে পারতেন, কিন্তু নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নেননি; বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার অতীতের যে অপকর্ম এবং পরবর্তীতে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের যে ষড়যন্ত্র তিনি করেছেন। আমরা জেনেছি লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করছেন—এই ধরণের ভূমিকাগুলোর কারণে তাকে কিন্তু এখন আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।

আপনার মতামত লিখুন :