গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র শ্মশানের চিলাইখাল খনন ও খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। গাজীপুর নগরবাসীর জন্য নির্মল বাতাস, সবুজের ছায়া ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির এই উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও বর্ষার পানিতে এখন তলিয়ে যাচ্ছে রোপণ করা বেশ কিছু গাছ। একই সঙ্গে খালের পানি উপচে পড়ায় ও পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পারায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা।
শহরের ব্যস্ততম প্রাণকেন্দ্রে সবুজে ঘেরা এই স্থানটি পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি নগরবাসীর জন্য হতে পারে এক টুকরো প্রশান্তির জায়গা। কর্মব্যস্ত শহুরে জীবনে নাগরিকরা এখানে এসে নির্মল বাতাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন নগরবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে বৃক্ষরোপণসহ পুরো নান্দনিক প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তলিয়ে যাওয়া গাছগুলো রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, “আমি এটি আবারও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করতে যা যা করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেব।”
তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটির সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাছগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বর্ষার পানি যাতে এ ধরনের নান্দনিক প্রকল্পের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়েও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। শহরের কংক্রিটের ব্যস্ততার মাঝে শ্মশানের চিলাইখালের এই সবুজায়ন প্রকল্প গাজীপুরবাসীর জন্য সত্যিই হতে পারে ‘শহরের প্রাণকেন্দ্রে এক টুকরো অক্সিজেন’। এখন প্রয়োজন এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ।

আপনার মতামত লিখুন :