গাজীপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক মন্ডল গ্রেপ্তার

শরীফ ওমর টুটুল , গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

গাজীপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক মন্ডল গ্রেপ্তার

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগেরচালা এলাকায় ১১ বছর বয়সী এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক মন্ডল (৫৫) নামের এক অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুর বড় ভাই বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি এজাহার দায়ের করার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ফারুক মন্ডল নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত বিরু মন্ডলের ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন শরীফপুর এলাকায় বাচ্চু সরকারের মার্কেটের পিছনে হাফিজ উদ্দিন সরকারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় 'গাজীপুর অক্সফোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ'-এর চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত ফারুক মন্ডল ভুক্তভোগীদের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন এবং পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৪টায় ভুক্তভোগীর ভাই বাসায় ফিরে তাঁর বোনকে কাঁদতে দেখেন। কান্নার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, ঐ দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে ফারুক মন্ডল তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে ফারুক মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করেন। এরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসা পরিবর্তন করে স্থান ত্যাগ করেন।

পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা এবং ভুক্তভোগী শিশুর মানসিক সেবা নিশ্চিত করার পর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ফারুক মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল আউয়াল সরদার জানান, "অভিযুক্ত লম্পট ফারুক মন্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে [মামলা নম্বর: ০৪(৭)২৬]। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

Link copied!