গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ডালেশ্বর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক পরিবারের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট সকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মো. শাহিন, সুলতান, খাজা, বিল্লাল হোসেন, লিপি আক্তার ও মোছা. মবিলা আক্তার বেআইনিভাবে স্থানীয় মো. আরিফ মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে আরিফ মিয়াকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এই ঘটনার জের ধরে পরদিন (২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষকরা জোহরের নামাজে থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা ডালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। সেখানে আরিফ মিয়ার ১২ বছর বয়সী মেয়ে, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আফরিন জাহান মিমকে একা পেয়ে চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়। এমনকি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন জানান, "লাঞ্চের সময় অভিযুক্ত লিপি আক্তার দোতলায় উঠে মিমকে মারধর করেন। নামাজ শেষে এসে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে অন্য শিক্ষকের সহায়তায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠাই।" তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত লিপি আক্তার দাবি করেন, "আমি শুধু হাত ধরে টেনে সিঁড়ি থেকে নামাচ্ছিলাম, তখন সে অচেতন হয়ে পড়ে। আমি কোনো মারামারি করিনি।"
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আরিফ মিয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :