গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন বলেছেন, “পুলিশ জনগণের শত্রু নয়, বন্ধু। সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করুন। ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে অযথা হয়রানি করবেন না।”তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য পুলিশ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে।পুলিশ জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা, অভিযোগ ও মতামত সরাসরি শোনার লক্ষ্যে জয়দেবপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও চাঁদাবাজি সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে শুধু পুলিশের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজিমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়তে পুলিশ এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো অপরাধ বা অপরাধীর বিষয়ে তথ্য থাকলে তা গোপন না রেখে পুলিশকে জানাতে হবে।”
মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। মাদক ব্যবসায়ী, মাদক পরিবহনকারী ও মাদকসেবীদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্য যাচাই করে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য না দেওয়ার জন্যও তিনি সবাইকে সতর্ক করেন।
জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল-মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিপি রানী সিনহা, গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসুল্লি, সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন রিজভী ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুসুল্লি।
অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, মাদক, চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে পুলিশ প্রশাসনের কাছে মতামত ও প্রস্তাব দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য ও অভিযোগ শোনেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন :