বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ঘিরে উত্তপ্ত দাগনভূঁঞা

মোঃশামসুউদ্দিন জাফর , দাগনভূঞা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ঘিরে উত্তপ্ত দাগনভূঁঞা

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় পুরো দাগনভূঁঞা বাজার এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দাগনভূঁঞার আতাতুর্ক স্কুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশ চলাকালে অডিটোরিয়ামের বাইরে কাজী ফটিকের নেতৃত্বে বিএনপির অপর একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা যায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারামারি এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সংঘর্ষের কারণে আতাতুর্ক স্কুল অডিটোরিয়াম এলাকা ছাড়িয়ে দাগনভূঁঞা বাজারের বিভিন্ন সড়কেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা প্রায় ১০ জন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও আহতদের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় ও তাদের চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সংঘর্ষের কারণে পুরো দাগনভূঁঞা বাজার এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত এলাকায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা এদিকে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন এবং আহতদের সংখ্যা ও ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা আরও বিস্তারিতভাবে জানা যাবে। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সিয়াম সরিষা
Link copied!