পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, নিহতের বাড়িতে শোকের ছায়া

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, নিহতের বাড়িতে শোকের ছায়া

ফাইল ফটো

রিয়াজ শরীফ,বরিশাল ব্যুরো : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে স্বামী কর্তৃক পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মুক্তা আক্তার ঢাকার খিলগাঁওয়ে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার বাকেরগঞ্জের দুধল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সরসী গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজো মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের ৩নং দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামের আলতু শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদারের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল নানা অজুহাতে স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ২ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে বেদম মারধর করেন। নির্মম এই মারধরের সময় ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তারা জানান। একপর্যায়ে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেন অভিযুক্ত স্বামী। অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পরকীয়ার জেরে সৃষ্ট বিবাদের পর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ঢাকার খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শিকদারকে আটক করে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার বাড়ি পশ্চিম সরসী গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার সরসী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) আব্দুস সালাম জানান, ঘটনাটি তারা অবগত আছেন এবং নিহতের স্বামীকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। সার্বিক তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দুধল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, "মুক্তা অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছিল। এই পাষণ্ড স্বামী সোহেল শিকদারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।" অমানুষিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!