চুরি করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি চোরচক্রের। মোটরসাইকেলে থাকা জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং সিস্টেমের সহায়তায় ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে চুরি হওয়া প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের আর১৫-এম (R15-M) মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার চরটিটিয়া এলাকার মো. আলমগীরের ছেলে শাকিল হোসেন (২২) এবং একই এলাকার মো. হাসানের ছেলে নিহাদ (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর দেউলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কবির বিশ্বাসের পরিত্যক্ত ইটভাটার সামনের সড়ক থেকে সিয়াম হোসেন রনির মোটরসাইকেলটি চুরি হয়।
মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার খবর পাওয়ার পরই বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি মোটরসাইকেলটিতে আগে থেকেই সংযুক্ত জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সেটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে জিপিএস-এর মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরপর সেটির অবস্থান অনুসরণ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের অভিযানে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশালের লাহারহাট স্পিডবোট ঘাট এলাকা থেকে শাকিল হোসেন ও নিহাদকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মালিক সিয়াম হোসেন রনি সেটি শনাক্ত করলে পুলিশ মোটরসাইকেলটি জব্দ করে বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের মালিক সিয়াম হোসেন রনি বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতায় চুরির একদিনের মধ্যেই মোটরসাইকেল উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মালিকের পরিবারে। একই সঙ্গে জিপিএস প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন :