সাক্ষরতা হোক সমৃদ্ধির সোপান: কেশবপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

হারুনার রশীদ বুলবুল , কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

সাক্ষরতা হোক সমৃদ্ধির সোপান: কেশবপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম বিশ্বাস ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বিশ্বাস এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন আলা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গঠনে সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও সাক্ষরতার মাধ্যমে মানুষ নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। তিনি মানুষের কল্যাণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই সমৃদ্ধির জন্য সবার মাঝে সাক্ষরতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষার আওতায় এনে জীবনমুখী ও কার্যকর সাক্ষরতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম বিশ্বাস বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতার আওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষাই মানুষের মৌলিক শক্তি। নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষক, প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে আধুনিক, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার বিস্তার আরও জোরদার করতে হবে।

পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সাক্ষরতা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং সামাজিক অপরাধ ও অনিয়ম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাক্ষরতার প্রসার জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাক্ষরতার ধারণা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ সচেতনতা, জীবনদক্ষতা ও আর্থিক জ্ঞানের মতো বিষয়গুলো আধুনিক সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী মানুষের মধ্যে কার্যকর ও জীবনমুখী সাক্ষরতা ছড়িয়ে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!