সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে দুর্লভ প্রাণী গাড়ল পালনের একটি ব্যতিক্রমী খামার গড়ে তুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আনিসুজ্জামান মিলন। নতুন এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনারায় গ্রামে প্রায় তিন বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে খামারটি। ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই খামারে বর্তমানে গাড়লের পাশাপাশি দেশি ছাগল, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মুরগি এবং বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ রয়েছে। সমন্বিত এ খামারটি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দুম্বা আকৃতির গাড়লগুলো সুস্থ পরিবেশে লালন-পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও দেশীয় ঘাসসহ প্রাকৃতিক খাদ্যে সহজে পালন করা যায় বলেই এই প্রাণী পালনে আগ্রহী হয়েছেন উদ্যোক্তা।
খামার পরিচালনাকারীরা জানান, খামারের মালিক আনিসুজ্জামান মিলন ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি নিজ এলাকায় বিনিয়োগ করে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং লাভজনক পশুপালনের একটি মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোক্তা আনিসুজ্জামান মিলন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব থেকে গাড়ল পালন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে খামারটি শুরু করেছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারের পরিধি আরও বাড়াতে চাই। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে আরও লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।
নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গাড়ল অত্যন্ত আবহাওয়া সহনশীল প্রাণী। বাণিজ্যিকভাবে এ প্রাণী পালন সম্প্রসারিত হলে দেশের মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন :