দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের গুপচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী ভরাট করে অবৈধভাবে জমি তৈরির অভিযোগ উঠেছে মজনু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে নদীর বুকে নিয়মিতভাবে মাটি ও বালু ফেলে একটি বড় অংশ ভরাট করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ভরাটকৃত অংশটিকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গুপচর এলাকায় রাতের আঁধারে এবং দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু এনে নদীর নির্দিষ্ট অংশ ভরাট করা হচ্ছে। এভাবে নদী দখলের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এভাবে নদী ভরাট অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং নদী ভাঙনের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে নদী ভরাট বর্তমানে এক প্রকার ‘নীরব ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির ঘাটতি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবকে দায়ী করছেন তারা। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ নদী দখলের প্রতিযোগিতায় মেতেছে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নদী ভরাট কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তবে এই দখল প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত মজনু নামের ওই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কে বা কারা এখানে বালি ফেলে নদী ভরাট করছে। আমরা অতি দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :