ঝিনাইদহে খাস জমিতে মেডিকেল কলেজ চাই" আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপ কামনা

মোঃ শাহীন রেজা , কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার করলেও ঝিনাইদহবাসী এখনো পায়নি কোনো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ, যা আজও অধরা রয়ে গেছে। তবে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে ঝিনাইদহের দুই কৃতি সন্তানের আসীন হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন জেলাবাসী। সরকারের বর্তমান আইনমন্ত্রী এবং দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল—এই ‘দুই রত্ন’র হাত ধরে জেলার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার ৩নং কুশনা ইউনিয়নের ‘জলার বিল’ মাঠে সরকারের প্রায় ২০০ একর পরিত্যক্ত খাস জমি রয়েছে। বর্তমানে বিশাল এই ভূমিটি কলমিলতা, উড়ি আর শোলা ধাপে পরিপূর্ণ হয়ে চাষের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসীর মতে, এই পরিত্যক্ত বিশাল ভূমিটি একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন সরকারি খাস জমির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পিছিয়ে পড়া কুশনা ইউনিয়নসহ পুরো জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আমূল বদলে যাবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝিনাইদহে উন্নত চিকিৎসার অভাবে জটিল রোগীদের এখনো ঢাকা কিংবা পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া বা যশোরে নিতে হয়। জরুরি অবস্থায় দূরপাল্লার এই যাত্রা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জলার বিল মাঠে মেডিকেল কলেজ হলে আধুনিক ক্যাম্পাস, খেলার মাঠ ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও চিকিৎসা কমপ্লেক্সের জন্য আদর্শ।

স্থানীয়রা বলছেন, অবহেলিত কুশনা ইউনিয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার চিত্র বদলে যাবে। বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ঝিনাইদহ জেলা দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে।

ঝিনাইদহবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের জেলায় যোগ্য নেতৃত্বের অভাব নেই। বর্তমান সরকারের দুই নীতিনির্ধারক আমাদের জেলার গর্ব। আমরা তাদের নিকট থেকে বড় কোনো চাওয়া নয়, কেবল পরিত্যক্ত খাস জমি ব্যবহার করে জেলাবাসীর জন্য একটি ‘পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ’ চাই।”

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে ৫৫ বছরে পা রাখা ঝিনাইদহ জেলা কি এবার তার কাঙ্ক্ষিত উপহার পাবে? জলার বিলের এই বিশাল জনপদ এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের ইতিবাচক পদক্ষেপের দিকে।

Link copied!