পাইকার সংকটে তরমুজ বাজার, চাষির চোখে লোকসানের শঙ্কা

মিথুন কর্মকার , আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

বরগুনার আমতলী উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে পাইকার সংকট ও কম দামের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমতলীতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমি। তবে তা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টরেরও বেশি জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বাজারদর কম থাকায় সম্ভাব্য আয় অনেকটাই কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে তরমুজের খেত। খেতের মাঝেই খড়কুটো দিয়ে তৈরি অস্থায়ী টংঘরে দিন-রাত অবস্থান করছেন শত শত কৃষক। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে পরিচর্যা ও বিপণন—প্রতিটি ধাপে নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা।

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের তরমুজ চাষি মামুন মোল্লা বলেন, ১০ কানি জমি প্রায় ৫ লাখ টাকায় লিজ নিয়ে তিনি ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তিনি হতাশ। গত বছর অনেক পাইকার এসেছিল, কিন্তু এ বছর তেমন কেউ আসছে না। যে দাম বলছে, তাতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি জানান।

বর্তমানে আমতলীতে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে পিস হিসেবে। ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের প্রতিটি তরমুজের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি চাষিদের।

হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ও আলম জানান, অধিকাংশ কৃষক উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু পাইকারের অভাব ও কম দামের কারণে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার ও শ্রমিক সবুজ খান বলেন, তরমুজ চাষে সার্বক্ষণিক শ্রম দিতে হয়। শ্রমিকদের মাসিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে হয়, পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও মালিককেই করতে হয়। প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় অনেকেই এ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, চলতি বছর তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে বাজারদর কম থাকায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, আমতলীর মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের আমতলী থেকে তরমুজ ক্রয়ের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে আমতলীতে তরমুজের ভালো ফলন ও বাজারদরের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ চাষে আগ্রহ বেড়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে দাম কমে যাওয়ায় সেই আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

Advertisement

Link copied!