বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থি ও থাইরয়েড হরমোনজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। শরীরের বিপাকক্রিয়া, বৃদ্ধি ও বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই গ্রন্থির কার্যক্রমে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তা পুরো শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েডজনিত সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের—হাইপোথাইরয়ডিজম এবং হাইপারথাইরয়ডিজম।
হাইপোথাইরয়ডিজমের কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। জন্মগতভাবে কোনো শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থি না থাকলে বা সঠিকভাবে তৈরি না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা দিতে পারে। এছাড়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থির বিরুদ্ধে কাজ করলে গ্রন্থিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা অটোইমিউন হাইপোথাইরয়ডিজম নামে পরিচিত। আবার কোনো কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি অপসারণ করতে হলে কিংবা রেডিয়েশন চিকিৎসার ফলে গ্রন্থি নষ্ট হয়ে গেলেও এই সমস্যা হতে পারে।
অন্যদিকে, শরীরে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডির মাত্রা বেড়ে গিয়ে থাইরয়েড গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তুললে হাইপারথাইরয়ডিজম দেখা দেয়।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
থাইরয়েডের সমস্যা হলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- গলা ফুলে যাওয়া বা নিচের দিকে ঝুলে পড়া
- অতিরিক্ত গরম অনুভব করা এবং হাত-পা বেশি ঘামা
- স্বাভাবিক খাবার গ্রহণের পরও ওজন কমে যাওয়া
- ঘন ঘন পায়খানা হওয়া
- ক্লান্তি ও অবসাদ
- চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং ক্ষুধামন্দা
- হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
- স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া
- রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
- বন্ধ্যত্ব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতা
- পেশিতে ব্যথা ও চোখের বিভিন্ন সমস্যা
পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েডের অবস্থা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সাধারণত TSH, T3 ও T4 পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাইরয়েডজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :