দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের জন্য সুখবর, বছরে পাবেন ১ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

দেশের ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসসহ ছয়টি জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে বছরে ১ লাখ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এর আওতায় ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা বছরে একবার এককালীন ১ লাখ টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রোগীদের এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসা ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দরিদ্র রোগীদের জন্য পরিচালিত এই মানবিক কর্মসূচি সমাজের বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। ফলে আরও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ঘোষিত দেশের ৫৫তম বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংসদে উপস্থাপনের আগে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদন করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন বাজেট আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

Link copied!