রামিসা ধর্ষণ মামলায় নতুন মোড়, ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল, কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি জেল আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

গত ৯ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সংক্রান্ত নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে স্বাক্ষর করার পর নথিটি উচ্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ প্রক্রিয়াই ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত।

গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থও উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। গত ২৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

পরে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা বাসার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Link copied!