সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অপরাধী যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” তিনি জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে। গত ১২ জুন ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।
দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ প্রদান করেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলাগুলোতে পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :