বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হয় বেনজীরের পরিচয়

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশে যাওয়ার পথে দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হয়ে গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বেনজীর আহমেদ লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় তিনি অন্যান্য যাত্রীর মতোই নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় আসেন। এ সময় বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে।

পরে স্ক্যান করা তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে তার নামে জারি করা ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত শনাক্ত হয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা তাকে আটক করে এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুবাই পুলিশ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে।

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলের কাছে আবেদন পাঠায়। পরে ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল এবং ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেফতারের অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১২ জুন আবুধাবিভিত্তিক এনসিবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয় যে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

একসময় দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

২০২৪ সালের শুরুতে তার বিপুল সম্পদের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য উঠে আসে। আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন সময়ে শত শত বিঘা জমি, একাধিক ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

Link copied!