দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষিতে তাকে আটক করে দুবাই সিটি পুলিশ। আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারের পর গত শুক্রবার (১২ জুন) দুবাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিষয়টি অবহিত করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুদকের দায়ের করা মামলার পর থেকেই বেনজীর আহমেদ আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় ছিলেন। তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করলে বিষয়টি ইন্টারপোলের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ প্রদান করেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই কন্যার বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলাগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে মোট ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :