ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কংস নদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ, আরেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
রাতে দাফনের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শরীরে সন্দেহজনক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং পরদিন ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তদন্তে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। সোমবার দুপুরে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রাম থেকে মারুফ হোসেন (২০), আরিফ হোসেন (১৮) ও রাকিব হাসানকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের একজন চারজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে নদীর পাড়সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে মোট চারজন জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় ধোবাউড়া জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :