মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মক্তবে যাওয়ার পথে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৯) ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়াকে (৪২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের লামুয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিশুটি লামুয়া মসজিদের মক্তবে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পথে অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া মসজিদের ইমামের জন্য টিফিন পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কৌশলে তার নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিশুটির স্বজনরা।
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, সকাল ৭টা থেকে প্রায় ৯টা পর্যন্ত তাকে ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে আনোয়ার বালিশ আনার জন্য ঘরের বাইরে গেলে সেই সুযোগে সে দৌড়ে পালিয়ে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে।
এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে কবরস্থানের পাশে মেয়েকে অসুস্থ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় পেয়ে তিনি ঘটনার সত্যতা বুঝতে পারেন। শিশুটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়াকে ধরে গণধোলাই দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা এক ব্যক্তিকে আটকে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী শিশুকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :