যাত্রাশিল্প ও সার্কাসের আয়োজনকে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে যাত্রাদল ও সার্কাসের প্রাথমিক অনুমোদন সরাসরি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বুধবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘যাত্রাশিল্পের মানোন্নয়ন’ বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী বলেন, এ ব্যবস্থার ফলে জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আয়োজকদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতে হবে না।
নিতাই রায় চৌধুরী আরও জানান, যাত্রাশিল্পকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রার নামে কোনো ধরনের অশ্লীলতা, জীবনবিমুখতা বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সুস্থ, রুচিশীল ও সময়োপযোগী বিনোদন নিশ্চিত করতে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সরকারের উদ্যোগে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক মাধ্যম যাত্রাশিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তিনি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী যাত্রার বাচনভঙ্গি, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা, বাদ্যযন্ত্র এবং উপস্থাপনায় আধুনিকতার সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন যাত্রাদলের মালিক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা পেশাগত নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা, ঝুঁকিভাতা এবং উন্নত কর্মপরিবেশের দাবি তুলে ধরেন। বক্তারা গ্রামীণ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণে সামাজিক, ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক বিষয়ভিত্তিক নতুন প্রযোজনা নির্মাণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, যাত্রাশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে একাডেমির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জুবায়ের বাবু, পালাকার রাখাল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :