টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শোকের পাশাপাশি একটি অপূর্ণ আক্ষেপ আজও তাকে তাড়া করে ফিরছে— যে পরিকল্পনা দু’জনে মিলে করেছিলেন, তা আর কখনও বাস্তবে রূপ নেবে না।
মাত্র ৪২ বছর বয়সে পশ্চিমবঙ্গের তালসারিতে শুটিং চলাকালে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন রাহুল। তার এই অকালপ্রয়াণে দুই বাংলার দর্শক ও শিল্পীমহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে তার পরিবারকে, বিশেষ করে জীবনসঙ্গী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে।
এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানান, ছেলে সহজের গরমের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বান্ধবগড়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। রাহুলকে পাঠানো তার শেষ বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, “ঠিক আছে, এখনও অনেক সময় রয়েছে, রিসার্চ করে নেওয়া যাবে।” কিন্তু সেই ‘অনেক সময়’ আর ফিরে আসেনি।
কণ্ঠে গভীর আক্ষেপ ঝরে পড়ে অভিনেত্রীর কথায়। তিনি বলেন, মানুষ প্রায়ই মনে করে সামনে অনেক সময় পড়ে আছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সময় থাকতে প্রিয়জনদের সঙ্গে মুহূর্তগুলো উপভোগ করা এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত।
বর্তমানে নিজেকে কাজের মধ্যেই ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন প্রিয়াঙ্কা। কাছের মানুষদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে এই কঠিন সময় পার করতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে ছেলে সহজও গান, কম্পিউটার, ভিডিও গেমস এবং বন্ধুদের সঙ্গেই নিজের সময় কাটানোর চেষ্টা করছে।
রাহুলের মা সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রিয়াঙ্কা। তার ভাষায়, পরিবারের প্রত্যেকেই গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের মতো করে এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে মুক্তি পেয়েছে প্রিয়াঙ্কা অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’। সৌমিক রায় চৌধুরী পরিচালিত এই সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, মেইয়াং চ্যাং ও সত্যম ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি। পরবর্তীতে প্রেম, বিয়ে এবং সম্পর্কের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে তারা আবারও একে অপরের কাছাকাছি এসেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই পথচলায় একাই এগিয়ে যেতে হচ্ছে প্রিয়াঙ্কাকে।
আপনার মতামত লিখুন :