চার বছরেও শেষ হয়নি ধামরাইয়ের পশ্চিম দেপাশাই বংশী নদীর সেতুর নির্মাণকাজ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আলাল হোসেন (সজিব) , ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ধামরাই উপজেলার পশ্চিম দেপাশাই এলাকায় বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে সাঁকো নির্মাণ করলেও সেটিও বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও অগ্রগতি খুবই ধীর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০০৪ সালের দিকে বংশী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর সেটি সরু হয়ে পড়ায় ২০২২ সালের ৩১ মে পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনের পর মেসার্স কামার জান আনোয়ারা জেবি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। তাদের ২০২৩ সালের ২৩ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পুরোনো সেতু ভেঙে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে শুরু হয় স্থানীয়দের দীর্ঘ ভোগান্তি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স উপকূল করপোরেশন। নতুন চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো সেতুর ৬০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রডে মরিচা ধরতে শুরু করেছে বলেও তারা জানান।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, "আন্তর্জাতিক কারণে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি এবং সামাজিক কিছু কারণে কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি।" ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, "আগের ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মাণকাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।"

স্থানীয়রা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা না হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Advertisement

Link copied!