সাত মাস ধরে পারিশ্রমিক দিচ্ছেন না পরিচালক, অভিযোগ পারসা ইভানার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী পারসা ইভানা নির্মাতা ফারহাদ আহমেদ ইশানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বার্থ রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

পারসার দাবি, প্রায় সাত মাস ধরে তিনি তাঁর প্রাপ্য পারিশ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করছেন। শুধু তিনি নন, সংশ্লিষ্ট প্রযোজনার আরও অনেক সদস্য এখনো তাঁদের পাওনা বুঝে পাননি। তাঁর ভাষ্য, নিজের কিছু অর্থ পেলেও বাকি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তবে নিজের পাওনার চেয়েও তিনি বেশি উদ্বিগ্ন প্রযোজনা দলের সেই কর্মীদের জন্য, যাঁরা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, নিজের পারিশ্রমিক না পেলেও হয়তো মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু যারা প্রতিদিনের কাজের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের প্রাপ্য আটকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন যারা এই অঙ্গনে কাজ শুরু করেছেন, তাদেরও যথাসময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সহকর্মীদের উদ্দেশে পারসা পরামর্শ দেন, কোনো কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের আর্থিক বিষয় ও চুক্তি লিখিতভাবে নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সততা, দায়বদ্ধতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতেই একটি সুস্থ শিল্পাঙ্গন গড়ে উঠতে পারে।

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে পারসা জানান, তিনি ‘নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি কাহিনিচিত্রে কাজ করেছিলেন। চার দিনের শুটিং নির্ধারিত থাকলেও শেষ দিনে কিছু দৃশ্য ধারণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শুটিং শেষে নির্মাতা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও জানান, পরে কাহিনিচিত্রটির প্রচারচিত্র প্রকাশিত হলে তিনি নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে অসমাপ্ত দৃশ্যের ধারণ ও পারিশ্রমিকের বিষয়ে কথা বলেন। নির্মাতা তাঁকে জানিয়েছিলেন, বকেয়া পরিশোধ করতে পারলেই অবশিষ্ট দৃশ্যের ধারণ করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দৃশ্যগুলো ধারণ না করেই কাহিনিচিত্রটি প্রকাশ করা হয়। বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন।

পারসার অভিযোগ, তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজন শিল্পী ও প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট কর্মীর পারিশ্রমিকও এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে অভিনয় সংঘকেও মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার না করলেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন নির্মাতা ফারহাদ আহমেদ ইশান। তাঁর দাবি, শুটিংয়ের শেষ দিনে পারসা ইভানার অসহযোগিতার কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে শিল্পীদের সময়সূচি মেলাতে না পারায় কাজটি শেষ করা যায়নি। এতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিলও আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই কাহিনিচিত্রটি প্রকাশ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্মাতার ভাষ্য, একই সময়ে বাবা-মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েন। সে কারণেই পারিশ্রমিক পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, পারসা ইভানার অধিকাংশ অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকাও দ্রুত পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে অন্য যাঁদের পাওনা রয়েছে, তাঁদের বকেয়াও শিগগির পরিশোধের আশ্বাস দেন তিনি।

Link copied!