ঝিনাইদহে সড়ক সংস্কার কাজ ফেলে রাখায় দুর্ভোগ, দ্রুত সমাধানের দাবি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

 ইলিয়াস হোসাইন কালীগঞ্জ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড় ডাউটি গ্রাম থেকে বাসুদেবপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার পাকা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসের ২০ রোজার দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে কিছুদিন কাজ চললেও অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে আর কোনো শ্রমিক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের খোয়া ফেলে রেখে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দ, খুঁড়ে রাখা অংশ এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইটের খোয়ার কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বড় ডাউটি ও বাসুদেবপুর এলাকার কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মাঠ থেকে ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাড়ি কিংবা বাজারে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ভ্যান, ট্রলি, নসিমন কিংবা অন্যান্য যানবাহন মাঠে প্রবেশ করতে না পারায় অনেককে মাথায় করে কিংবা বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে ফসল পরিবহন করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক বলেন, “রাস্তা খুঁড়ে রেখে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। সময়ও বেশি লাগছে। এতে কৃষিকাজে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।” অন্যদিকে, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। ইটের খোয়া, ধুলাবালি ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়ায় চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় কয়েকজন নারী ও শিক্ষার্থী বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে এখন হাঁটাও কষ্টকর। বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদার এভাবে কাজ ফেলে চলে যাবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। এ অবস্থায় দ্রুত সড়কের সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এবং কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে আরও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে।

Link copied!