নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা নদীর শাখা নদীতে একটি বিশাল কুমির দেখা যাওয়ার খবরে উচিৎপুরা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্ক কমাতে মাইকিং করে স্থানীয়দের নদীতে গোসল ও পারাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উচিৎপুরা ইউনিয়নের জাংগালিয়া চেঙ্গাকান্দীপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ মক্তব শেষে মসজিদের ঘাটে যান। এসময় ঘাট থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে নদীর মাঝখানে একটি বিশাল কুমির ভাসতে দেখেন তিনি।
মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ বলেন, “প্রথমে দূর থেকে দেখে মোবাইলে ছবি তুলতে গেলাম। তোলার মাঝেই কুমিরটি পানিতে ডুবে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ঘাটের একদম কাছে এসে আবার ভেসে ওঠে। তখন খুব ভয় পেয়ে যাই। পরে সাহস করে ছবি তুলে দ্রুত এলাকাবাসীকে জানাই এবং মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করি।” মাহফুজের তোলা কুমিরের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। তবে অনেকে ছবিটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন।
বিতর্কের জবাবে স্থানীয় নিউজ পোর্টাল ‘আড়াইহাজার টাইমস’-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘জিওগ্রাফিক্যাল ম্যাচ’ এর মাধ্যমে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করেন। তিনি জানান, ছবির সাথে ঘটনাস্থলের পরিবেশের শতভাগ মিল রয়েছে। ফলে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলে একই নদীর উচিৎপুরা বাজার এলাকায় একাধিক ব্যক্তি আবারও কুমিরটিকে ভাসতে দেখেছেন বলে দাবি করেন। এতে পুরো ইউনিয়নে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনাস্থল মূল মেঘনা নদী থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় পরিবেশবিদ ও প্রবীণদের মতে, বর্ষায় জোয়ারের পানির সাথে মূল নদী থেকে কুমিরের মতো বন্যপ্রাণী শাখা নদীতে চলে আসা অস্বাভাবিক নয়। এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু কাউছার বলেন, “এই বিষয়ে আমাকে এখনো কেউ জানায়নি। তবে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো। আপাতত নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :