মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুস্তা বন্দর এলাকার প্রধান সড়কটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ব্যস্ততম কামারপট্টি, কাঠপট্টি ও বাঁশপট্টি এলাকার এই সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জন্য 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুস্তা বন্দর বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে চালক ও পথচারীরা রাস্তার গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
কুস্তা বন্দর বাজারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং পণ্যবাহী যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। তবে রাস্তার বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। কাদা-পানির দুর্ভোগের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কামারপট্টি, কাঠপট্টি ও বাঁশপট্টির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় জরুরি যানবাহনগুলো রাস্তার গর্তে আটকে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে শুধু আশ্বাসই দিয়ে গেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সড়কটির টেকসই সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হোক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ভোক্তভোগী জনগণের দাবি—আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
আপনার মতামত লিখুন :