দাতার ছেলেকে রাস্তায় বসে মাছ ধরতে নিষেধ করায় রাস্তা কেটে চলাচলে বাধা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৪ এএম

মোঃ আব্দুল মান্নান : ময়মনসিংহের ফুলপুরে রাস্তার জমিদাতার ছেলেমেয়েদেরকে রাস্তায় বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে নিষেধ করায় রাগে ক্ষোভে ৬ ফুট বিশিষ্ট রাস্তার আনুমানিক  ১ ফুট পরিমাণ রেখে তিন দফায় বাকিটুকুর মুখ অনেকটা বড় করে কেটে অটোরিকশা বা যে কোন প্রকারের গাড়ি চলাচল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ওই এলাকার বসতিদের এখান দিয়ে চলাচলে বাধা প্রদান করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের মোকামিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার বসতিগণ ও খাদিজাতুল কুবরা (রা.) ক্বওমী  মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রবিবার ও মঙ্গলবারেও রাস্তাটি কেটে পুকুরে ধ্বসিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফুলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি রাস্তাটির ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত আর না কাটার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসেন কিন্তু তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আব্দুর রহমান গং মঙ্গলবার আবারও রাস্তাটি কাটে।  

পরে মাদরাসার মুহতামিম ও এলাকাবাসীর অনুরোধে  মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী ও গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিন পরিদর্শনে যান। তারা গিয়ে দেখেন যে, সত্যি সত্যিই রাস্তাটি অনেক বড় করে কেটে ফেলা হয়েছে। এসময় স্থানীয় শাহজাহান, মফিজুল, আইনল হক, নাসির উদ্দিন, সিরাজুল, আবুল কালাম, লালু মিয়া, আব্দুল মান্নান, খলিল, আনোয়ার, জয়নাল, ইয়াহইয়া, নবী হোসেন, ফরিদ মিয়া, মোস্তাক, ইসমাইল, সোহেল, রুবেল, ইছামুদ্দিন, ইলিয়াস, আলমগীর, মিজানুর রহমান, আব্দুল জব্বার, জাহিদুল, হাবিবুর রহমান প্রমুখ এসে সমবেত হন এবং তারাও এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

স্থানীয় মুরুব্বি নাজিম উদ্দিন বলেন, এখানে আমারও জমি আছে। রাস্তা তো কারো নিকট থেকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়নি। ওই সময় সে খুশিমনে নিজে থেকে মেপে বুঝিয়ে দিয়েছে। সীমানা খুঁটি গাড়া হয়েছে। এখন না দেওয়ার কারণ কি? এসময় রাস্তাটি কেটে ফেলায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রিকশাওয়ালা আবুল কালাম বলেন, এদিক দিয়ে রাস্তা আছে বলে বেশি দর দিয়ে আমি জমি কিনে বাড়ি করেছি। এখন আমার বাড়িতে রিকশা নিয়ে যেতে পারছি না। রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। 

খাদিজাতুল কুবরা (রা.) মহিলা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ আজিম উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের অভিভাবক ও আশপাশ এলাকার লোকজন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকেন। এখানে সভা হয়। উলামায়ে কেরামের আগমন ঘটে। আমাদের ফুলপুর তারাকান্দা আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ সাহেবও এ মাদরাসা পরিদর্শনে এসেছেন। কাজেই রাস্তাটি বহু গুরুত্বপূর্ণ। একদিন এ রাস্তায় চলাচল বন্ধ থাকলে বহু মানুষের পেরেশানি বাড়বে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এমপি সাহেব এ রাস্তাটি ইটের সলিং করে দেওয়ার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন। এরই মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় আব্দুর রহমান সাহেব রাস্তা কেটে ফেলেছেন। এসময় দ্রুত রাস্তাটি ভরাট করে চলাচলের পথ সুগম করে দেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান। তা নাহলে মাদরাসার উপর এর কুপ্রভাব পড়তে পারে এবং  শিক্ষার্থী কমে যেতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। পরে এর দায় কে নেবে? 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমার অল্প জমি। নাজিম উদ্দিন ভাই আমাকে রাস্তার জন্য জমি দেওয়ার ফজিলত বুঝালে আমি দিয়েছিলাম। এখন দেখি, আমার ছেলেমেয়েরা ওখানে বসে একটু মাছও ধরতে পারে না। উঠিয়ে দেয়। তাহলে আরও তো দিন পইরাই রইছে। তহন কি করবো? এলাইগ্যা চিন্তা করছি রাস্তাই দিতাম না। পরে কাইট্যালছি।  এ ব্যাপারে সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী উপজেলা ও থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এর চূড়ান্ত ফায়সালা দেওয়ার দাবি জানান। তা নাহলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

Link copied!