গণরায়ের বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

গণরায়ের বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বান

ফাইল ফটো

জুলাই জাতীয় সনদের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কার কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সনদের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য এবং সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উত্থাপন করেন।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতেই তিনি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সনদ সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চায়। এ জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন এবং বিরোধী দলকে এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল যেন এ আন্দোলনের একক কৃতিত্ব দাবি না করে এবং কোনো গোষ্ঠী যেন আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে একনায়কতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সংবিধান সংস্কারে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি তাদের আলোচনায় ফিরে এসে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শহীদ পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘ক’ শ্রেণির আহতদের ৫ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির আহতদের ৩ লাখ টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির আহতদের ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!