ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশের সাইবার টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশের সাইবার টিম সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন—এমন অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন পোস্ট, ছবি ও ভিডিও প্রচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার টিমের দাবি, জেলার বাইরের বিভিন্ন স্থানে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ময়মনসিংহ নগরীসহ বিভিন্ন এলাকার ঘটনা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মধ্যে আওয়ামী লীগের মিছিল, সভা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পুরোনো বা সাম্প্রতিক ছবি-ভিডিও রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও কথিত ফেক আইডির মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত কোনো প্রচারণা চালানো হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত করছে সাইবার টিম। ইতোমধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তাদের অনলাইন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, পেজ ও প্রকাশিত কনটেন্ট যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নগরীর বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম বলেন, “ফেসবুকে দেখি কিছু সাংবাদিক সারাক্ষণ চুলকায়। তারা লিখে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নাকি প্রকাশ্যে মিটিং-মিছিল করে। সামান্য টাকার জন্য কেউ কেউ দিনকে রাত, রাতকে দিন বানিয়ে লেখে। এসব অপপ্রচার বন্ধ হওয়া দরকার।”
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, “আমার থানার এলাকায় কোনো মিটিং-মিছিল হয়নি। দু-একটি ঘটনা ঘটার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “নগরীতে কোনো ধরনের অন্যায় ও অপরাধ হতে দেওয়া হবে না। ছিনতাই ও মাদক বন্ধে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্যারের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ছয় মাসে ময়মনসিংহে ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, “একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিনকে রাত বানিয়ে প্রচার করছে। আমরা এসব নিয়ে কাজ করছি। অন্যায় করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্রচারণা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :