এস.এম হোসেন আছাদ : জামালপুর পৌরশহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় গৃহবধূ ইশরাত জাহান মিমি (৩০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের জের ধরে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত মো. কাউসার আহমেদ খানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। অভিযুক্ত কাউসার আহাম্মেদ খান বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট সংলগ্ন একটি ভবনের ৫তলার বাসা থেকে মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহত মিমির মা জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-৫২) দায়ের করার পরপরই পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট ছায়াতদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের চৌকস তদন্ত টীম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ আগস্ট বিকেল ৫:৪৫ মিনিটে শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসারকে গ্রেপ্তার করেন।
আরো জানা যায়, নিহত মিমি ২০২১ সালে স্বামী হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। তিন বছর আগে স্থানীয় এক ডেকোরেটর ও মনোহারি দোকানদার কাউসারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে কৌশলে কাউসারকে নিজের বাসায় ডেকে এনে গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন মিমি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে কাউসারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকেন তিনি। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে কাউসার নিজের জমানো সঞ্চয়, জমি বিক্রির অর্থ এমনকি স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করতে বাধ্য হন।একপর্যায়ে কাউসার এই অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে উভয়ের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন মিমি পুনরায় টাকা দাবি করলে কাউসার অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে সম্পর্কের বিষয় জানিয়ে দিতে গেলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কাউসার মিমির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা শেষে পালিয়ে যায়।এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত (পিপিএম) জানান, অপরাধীকে আড়াল করার সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে ছায়াতদন্ত সম্পন্ন করে মূল রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চূড়ান্ত পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :