ডেঙ্গু প্রতিরোধে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মশারী বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মশারী বিতরণ

মোঃ মামুন মোল্লা , খুলনা : সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে মশারী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনার দৌলতপুরের আলীভবনে সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও জনসচেতনতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহ-সভাপতি মুন্নি আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার খন্দকার জহিরুল ইসলাম এবং উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সেখ মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে শিশু সাংবাদিক অসফিয়া আহম্মেদ উপস্থাপনায় অংশ নেন।

বিশেষ অতিথি খন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠান শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনেরও একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সাংবাদিক তানভীর তপন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি আমাদের সামাজিক সচেতনতারও একটি বড় পরীক্ষা। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, সমবায় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু মশারী বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুন্নি আক্তার বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অন্যতম লক্ষ্য। ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষায় মশারী বিতরণের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি মশারী একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিতে পারে, আর একটি সচেতন পরিবার একটি সমাজকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজার সুরঞ্জন কুমার মন্ডল, সহকারী ম্যানেজার এবিএম মহিতুজ্জামান, লিটন মন্ডল, সাংবাদিক শরীফুল হোসেন, নাছরিন, তানিয়া, তন্দ্রা, মাবিয়া, সাজু খানসহ সমিতির সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সিয়াম সরিষা
Link copied!