রংপুরের পীরগঞ্জে আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন কৃষকরা। জমি প্রস্তুত, পেঁয়াজের গুটি সংগ্রহ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ পেঁয়াজের তুলনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম বাজারজাত করা যায়। ফলে মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ছোট আকৃতির পেঁয়াজের কন্দ বা গুটি জমিতে রোপণ করেই এ পেঁয়াজের আবাদ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পেঁয়াজের গুটি রোপণ করা হয় এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে তা সংগ্রহ করা যায়। জমি প্রস্তুতের পর নির্দিষ্ট দূরত্বে গুটি রোপণ করতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। ভালো ফলনের জন্য জমিতে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাতারও বাজারে চাহিদা রয়েছে। ফলে পেঁয়াজের বাজারদর ভালো থাকলে এ জাতের পেঁয়াজ চাষে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ, গুটির দাম ও বাজারদরের ওপরই মূলত লাভ-লোকসান নির্ভর করে।
উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের গুজ্জিপাড়া গ্রামের পেঁয়াজচাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, “এবার পেঁয়াজের গুটি শুরুতেই প্রতি মণ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, “গত মৌসুমে পীরগঞ্জে প্রায় ২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এর লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৩০ হেক্টর হতে পারে। কৃষকরা যাতে আবাদে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হবে।”
কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ আরও বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে বাজারে সরবরাহও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন :