মোহাম্মদ আইয়ুব ,মাতামুহুরী : কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য এবং তারা অস্ত্র-গুলি তৈরি, কেনাবেচা ও ডাকাতির কাজে অস্ত্র সরবরাহ করত। রোববার রাতে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া ও হালকাচা পাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও ডাকাতিবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছিল।
রোববার রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে লাল ব্রিজ এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ খবর পায়, বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে একদল ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশ প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাড়িটি ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও পাঁচজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) ও জহুরা বেগম (৪৫)। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল, একটি শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শর্টগানের কার্তুজ, দুটি কার্তুজের খোসা, একটি ক্লিনিং রড, অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম এবং ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়ায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে শহর বানু (৫৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রথম অভিযানের ৫৮ রাউন্ডসহ মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতির জন্য অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
বিভিন্ন সড়ক ও মাছের ঘেরসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :